১৮ জানুয়ারি নির্মাণ শ্রমিকদের দাবি দিবস উপলক্ষে মাধবদী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) রেজিষ্টেশন নং বি- ১৯৭১।
২০২৬-২৭ অর্থ বছরে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করে মৌলিক অধিকারসহ ১২ দফা দাবী বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে মাধবদী থানা ও পৌর কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন
ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) মাধবদী থানা কমিটির সভাপতি হাজী মোঃ নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মামুন মিয়া, মাধবদী পৌর কমিটির সভাপতি মোঃ মনির হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মোখলেস প্রমুখ।
মানববন্ধন থেকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সভা প্রতিমাসে, নির্মাণ শ্রমিকদের বাসস্থান, কর্মস্থলে নিরাপত্তা, রেশনিং ব্যবস্থা চালুসহ ২০২৬-২৭, অর্থ বছরে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করে ১২ দফা মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের দাবী জানানো হয়।
১. সরকারি উদ্যোগে রাজধানী ঢাকা শহরে থানা ও ওয়ার্ড ভিত্তিক এবং সারাদেশে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক নির্মাণ কলোনী স্থাপন করে সুলভ মূল্যে দীর্ঘমেয়াদী লীজ প্রদানের মাধ্যমে নির্মাণ শ্রমিকদের বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে। কলোনীতে শ্রমিকদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল এবং চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. শ্রম আইনের আওতায় নির্মাণ শ্রমিকদের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রেশনিং ব্যবস্থা, দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহত বা আজীবন পঙ্গুত্ব বরণকারী শ্রমিকের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ILO কনভেনশন ১২১ মোতাবেক Loss Of Earning Year (এক জীবনের সমপরিমান ক্ষতিপূরণ) এর ভিত্তিতে শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে কোন-ভাবেই যেন শ্রমিকদেরকে ১৫ লক্ষ টাকার কম ক্ষতিপূরণ যাতে না দিতে পারে সে ব্যাপারে সরকারকে প্রজ্ঞাপন জারী করতে হবে।
৩)বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বোর্ড সভা প্রতিমাসে একবার করতে হবে। তহবিল থেকে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য ব্যাপক কল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে এবং সাহায্যের আবেদন ফরমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. নির্মাণ শ্রমিকরা তাদের অধিকার বাস্তবায়নে যাতে সহজে আদালতের স্মরণাপন্ন হতে পারে সে লক্ষ্যে প্রত্যেক জেলা/উপজেলায় শ্রম আদালত স্থাপন করতে হবে এবং অধিকার ও পাওনাদির বিষয়ে ৪২ দিনের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
৫. ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্মপরিবেশ এবং নির্মাণ শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. শ্রম আইন সংশোধনী ২০০৬ এর ৩২৩ ধারা মোতাবেক জাতীয় শিল্প স্বাস্থ্য কাউন্সিল ও নিমার্ণ সেক্টরের নিম্নতম মজুরী বোর্ডে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব) এর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৭. কর্মস্থলে নির্মাণ শ্রমিকরা যাতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করে শুধু সার্ভিস চার্জ নিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দিয়ে বিদেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং বর্তমানে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের হয়রানি ও দুর্ভোগ বন্ধ করতে হবে।
৯. সরকারি উদ্যোগে বিভাগীয় শহরে থানা ভিত্তিক এবং জেলা ও উপজেলায় শ্রম ছাউনি নির্মাণ করতে হবে।
১০. নারী নির্মাণ শ্রমিকদের সমকাজে সমমজুরী নিশ্চিত করতে হবে।
১১. নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য রেজিষ্টার খাতা রাখার বিধান সকল নির্মাণাধীন ভবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।
১২. নির্মাণ শ্রমিকদের সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরী দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান উর্ধগতির প্রেক্ষিতে পূণঃমূল্যায়ন করতে হবে।
মোঃ নজরুল ইসলাম নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি ঃ
নরসিংদী,রোববার ১৮ জানুয়ারি এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















